‘স্মার্ট’ লকডাউন চাইলেন পিপিআরসি নির্বাহী চেয়ারম্যান
নতুন আয়ের ধাক্কা সামলাতে ‘স্মার্ট’লকডাউন দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডঃ হোসেন জিল্লুর রহমান। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশান রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অফ গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (বিআইজিডি)-র করা যৌথ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান তিনি।
দেশে বিদ্যমান দারিদ্র্য-সংকট নিয়ে পিপিআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ডঃ হোসেন জিল্লুর রহমান সংবাদ বলেন, “যদিও কোভিড-কালে সামাজিক সুরক্ষা নামমাত্র (Token) ভূমিকা পালন করছে কিন্তু এটিকে অগ্রাধিকার দেয়া দরকার। শহরের দরিদ্র শ্রেণী এবং “নতুন দরিদ্র”দের জন্য বর্তমানে থাকা সুরক্ষা কর্মসূচীর পাশাপাশি কার্যকরী ও প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ আরও কর্মসূচী হাতে নেয়া উচিত।“ তিনি আরও বলেন, “নতুন আয়ের ধাক্কা সামলাতে ‘স্মার্ট’ লকডাউন দরকার। এটি স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারও বটে।”
সংবাদ সম্মেলনে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে টেলিফোনের মাধ্যমে দেশব্যাপী তিন ধাপে করা এই জরিপে কোভিড-১৯ এর কারণে সৃষ্ট দারিদ্র্যের গতিপ্রকৃতি এবং স্বল্প আয়ের মানুষদের মাঝে এর প্রভাব সম্পর্কে গবেষণা করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, শহুরে বস্তিতে কোভিড-পূর্ব অবস্থার আয়ের চেয়ে এখনকার আয় ১৪% কম ।
সংবাদ সম্মেলনে বিআইজিডি’র নির্বাহী পরিচালক ডঃ ইমরান মতিন তার বক্তব্যে নারীদের কর্মহীনতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, এমনিতেই দেশের শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহন কম। আর কোভিড-সৃষ্ট এই অবস্থা নারীদের শ্রমবাজার থেকে আরও ছিটকে ফেলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পেশা পরিবর্তন করে দিনমজুরের মত ঝুঁকিপূর্ণ পেশা গ্রহণ করায় দরিদ্রদের দুরবস্থা আরও বাড়ছে।
শুধুমাত্র কৃষিখাতই বলা চলে কোভিড-পূর্ব অবস্থার মত ইতিবাচক অবস্থান গড়তে পেরেছে। শহরে আয়ের সুযোগ হ্রাস পাওয়ায় বস্তি থেকে গ্রামে চলে যাওয়ার ঘটনা প্রচুর ঘটেছে। গতবছর ২৭.৩% বস্তিবাসী শহর ছেড়েছিলো যাদের ৯.৮% এখনও ফেরে নি। প্রাক-কোভিড অবস্থার তুলনায় আয় কমলেও খাবারের ব্যয় বাদে দৈনন্দিন যে ব্যয় সেটি গত জুন থেকে দ্বিগুন হয়েছে। ভাড়াবাড়িতে থাকা অধিকাংশ শহুরে দরিদ্রদের জন্য এটি নির্মম বাস্তবতা। সবার সঞ্চয় কমে গেছে আশ্চর্যজনকভাবে। ভিএনপি এবং দরিদ্র নয় এমন শ্রেণীর মানুষদের সঞ্চয়ের পরিমাণ কোভিড-পূর্ববর্তী অবস্থার চেয়ে নিচে নেমে গেছে। একইসাথে সব শ্রেণীতেই ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে।
সর্বশেষে ডঃ রহমান দারিদ্রের ফাঁদে পড়া নারী ও “নতুন দরিদ্র”দের সহায়তার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, সিএসএমই-সহ অর্থনৈতিক দুরবস্থায় পড়া খাতগুলোতে একটি পরিকল্পিত এবং “জোর ধাক্কা” দেয়া প্রয়োজন। শুধু তাই নয় তিনি অতিদ্রুত একটি জাতীয় সিএসএমই পুনরুদ্ধার কর্মসূচী প্রণয়নেরও আহ্বান জানান।
গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত জুনে দরিদ্র নয় কিন্তু সেই ঝুঁকিতে থাকা এই মানুষদের ৭২% দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছিলো। তাদের আখ্যায়িত করা হয়েছিল “নতুন দরিদ্র” হিসেবে। সেই “নতুন দরিদ্র”দের ৫০% এখনও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের তালিকায় বিদ্যমান। এই হার শহরে ৫৯% এবং গ্রামে ৪৪%। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে ১৪.৮% “নতুন দরিদ্র”দের এই হার বিগত বছরের জুনে ছিলো ২১.২%-এ।
যদিও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিগত জুন মাস থেকে উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারপরও কোভিডের পূর্বে কাজ ছিলো কিন্তু এখন বেকার এমন মানুষ রয়েছে ৮%। কর্মহীনতার এই ধারা নারীদের জন্য বেশ আশংকাজনক। কোভিডের আগে কর্মজীবি ছিলেন এমন নারীদের এক-তৃতীয়াংশ গত বছর জুন মাস থেকে এখনও বেকার। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার নেমে এসেছে ১৬% থেকে ৬%এ।